Dual Currency Card কি? কিভাবে পাওয়া যাবে ? কি কি কাজে প্রয়োজন এই ডুয়েল কারেন্সি কার্ড? সাধারন কার্ডের তুলনায় ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের সুবিধা। অর্থাৎ ডুয়েল কারেন্সি কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব আগামি কয়েক মিনিটে।

Dual Currency কার্ড পরিচিতি :

সচরাচর আমরা যে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করি সেটা দিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশি টাকা লেনদেন করা যায়। ডুয়েল কারেন্সি কার্ড বলতে এমন একধরনের প্লাস্টিক কার্ডকে বুঝায়, যেটা দ্বারা একইসাথে দুইটি আলাদা আলাদা মুদ্রা লেনদেন করা যায়। যে কার্ড ব্যবহার করে আপনি বাংলাদেশি মুদ্রার সাথে সাথে মার্কিন ডলারও লেনদেন করতে পারেন সেটাকেই আমরা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড বলি। সাধারনত আমরা যে কার্ড ব্যবহার করি সেটা এবং ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের মধ্যে পার্থক্য হল সাধারন কার্ডে শুধুমাত্র বাংলাদেশি টাকা লেনদেন করা গেলেও ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে বাংলাদেশি টাকার সাথে সাথে মার্কিন ডলার ও লেনদেন করা যায়।

ডুয়েল কারেন্সি কার্ড কেন প্রয়োজন :

আপনি যদি দেশের বাইরে সফর করেন তবে দেশের বাইরে তো আপনি বাংলাদেশি টাকা ব্যবহার করতে পারবেন না। তখন আপনাকে মার্কিন ডলার ব্যাবহার করতে হবে। যদি আপনি ইউটিউব বা ফেইসবুক বুস্ট করতে চান তবে আপনার পেমেন্ট করতে হবে ডলারে। যদি আপনি ফ্রিল্যান্সার হন এবং কোন theme অথবা png কিনতে চান তবে আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে ডলারে। আপনি যদি Amazon বা Ali Express এর মত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে কিছু কিনতে চান, তবে এখানেও আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে ডলারে। এছাড়াও আরও অনেক ক্ষেত্র আছে যেমন দেশের সীমানার পেরিয়ে আপনি কোন সেবা গ্রহন করলে তার বিপরীতে ডলারে পেমেন্ট করতে হয়। এখন আপনার যদি এরকম কোন কাজে ডলার লেনদেনের প্রয়োজন হয় তবে অবশ্যই আপনি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নিতে পারেন।

কিভাবে একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড পেতে পারি :

বাংলাদেশে এমন অনেক ব্যাংক আছে যারা ডুয়ল কারেন্সি কার্ড ইস্যু করে থাকে। সাধারন ডেবিট কার্ডের মতই ডুয়েল কারেন্সি কার্ডও ব্যাংক কতৃক ইস্যু করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া সহ আরও কিছু ব্যাংক আছে যারা ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ডের সুবিধা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যাংক অনুযায়ী তাদের আলাদা আলাদা শর্তাবলী পূরণ করে চাইলে আপনি যে কোন ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের সেবা পেতে পারেন।

বিভিন্ন ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড এবং তাদের সুবিধা অসুবিধা:

সিটি ব্যাংকের একাধিক ডুয়েল কারেন্সি কার্ড রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল The City Bank American Express Prepaid Card. কার্ডের জন্য আবেদন করতে লাগবে ; পূরনকৃত আবেদনপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি,২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, বৈদেশিক মুদ্রা অনুমোদনের জন্য বৈধ পাসপোর্ট, পূরনকৃত KYC ফর্ম। এবং বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮ বছর। ব্যাংক ভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। যদি এই কার্ডের সুবিধার কথা বলি তবে আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডগুলি গ্রহন করা হয় এমন যেকোনো প্ল্যাটফর্ম/টার্মিনালে লেনদেন এবং নগদ উত্তোলন করা যাবে এই কার্ডটি দ্বারা। ডুয়েল কারেন্সি ব্যবহার করা যাবে অর্থাৎ মার্কিন ডলার লেনদেন করা যাবে। প্রত্যকটা লেনদেন সম্পর্কে আপনাকে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। কার্ড ব্যাবহার করে লেনদেনে থাকছে ক্যাশব্যাক। মাসের শেষে ক্যাশব্যাক আ্যামাউন্ট সরাসরি কার্ডে যোগ করে দেওয়া হয়। থাকছে এসএমএসের মাধ্যমে সহজে ব্যালেন্স ট্রান্সফারের সুবিধাও। অনেক তো হল গুণগান এখন চলুন খারাপ দিকগুলোও এক পলকে দেখে আসি। এই কার্ডের সবচেয়ে বড় খারাপ দিক হচ্ছে কার্ডটি Visa বা Mastercard এর বদলে American Express পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সিস্টেম সাপোর্ট করে। যেটা অনেক প্লাটফর্ম গ্রহন করে না। এবং এসএমএস ফি বাবাদ প্রতিবছর ২০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ করা হয়। কার্ডটি দিয়ে POS/E-COM এবং ATM থেকে ক্যাশ উত্তোলনও করা যাবে। এক্ষেত্রে লিমিট হচ্ছে POS/E-COM এ দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০০০০ টাকা করে একদিন সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। এবং একমাসে ৪০ টি লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার। এটিএম থেকে ক্যাশ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও একই। ১ দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং একমাসে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। এবং প্রতিবার ২০০০০ টাকা করে উত্তোলন করা যাবে। এবি ব্যাংকের সাধারন ডেবিট কার্ডটি চাইলেই আপনি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন শুধুমাত্র আপনার আপনার কার্ডটি আপনার বৈধ পাসপোর্টের বাৎসরিক ট্রাভেল কোটার বিপরীতে এনডোর্স করে নিতে হবে। যাকে Dollar Endorsement বলা হয়। এবি ব্যাংকের যে কোন শাখা থেকেই আপনি চাইলে ডলার এনডোর্স করে নিতে পারেন। ডলার এনডোর্স করার পর আপনি আপনার এবি ব্যাংকের সাধারন ডেবিট কার্ড দিয়েই বিশ্বের যে কোন প্রান্তে মার্কিন ডলার লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়াও ব্যাংক এশিয়ার ডুয়েল কারেন্সি কার্ড  স্বধীন মাস্টারকার্ড এবং ইসলামি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক সহ বেশিরভাগ বাংলাদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকই বর্তমানে ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের সেবা দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, আপনার একাউন্টে আপনি বাংলাদেশি টাকা রাখলে সেটি মার্কিন ডলারে লেনদেন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে  আপনি যখন ডলার লেনদেন করবেন সেই সময়ের ডলার এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী আপনার টাকা ডলারে কনভার্ট হয়ে হয়ে যাবে।


ব্যাক্তিগত মতামত:

সাধারন কার্ডের মত ডুয়েল কারেন্সি কার্ডও ডেবিট এবং ক্রেডিট দুই ধরনের হতে পারে। সিটি ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ডেরও সুবিধা বয়েছে। আমার কাছে ব্যাক্তিগতভাবে এবি ব্যাংকের কার্ডটি বেশি সুবিধাজনক মনে হয়েছে। কারন নতুন কোন কার্ডের ঝামেলা নেই। পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট করে নিলে পুরাতন ডেবিট কার্ড দিয়েইকরা যাবে ডলার লেনদেন। আপনি কোন ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড নিতে চাইবেন?

3 Comments

  1. আমি ব্যাক্তিগতভাবে ব্যাংক এশিয়ার স্বাধীন মাস্টারকার্ড ব্যাবহার করি। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সাজেস্ট করার মত একটা কার্ড। তবে এবি ব্যাংকের কার্ডটাও ট্রাই করার ইচ্ছা আছে।

    ReplyDelete
  2. ইসলামি ব্যাংক কেমন হয়

    ReplyDelete

Post a Comment

Previous Post Next Post