WHAT IS INFLUATION :

INFLUATION বা মুদ্রাস্ফীতি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা। মুলত মুদ্রাস্ফীতি বলতে বুঝায় মুদ্রার মূল্যমান কমে যাওয়া। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে টাকার মান আবার কিভাবে কমে? পুরা ব্যাপারটা একটা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝা যাক। আমরা অনেক সময় বলি যে কাপড় ছোট হয়ে গেছে তাই পরতে পারছি না। আসলেই কি কাপড় ছোট হয়ে যায়? প্রাণহীন বস্তু কিভাবে ছোট বা বড় হতে পারে। আসলে কাপড় ছোট হয়নি। আমাদের দেহ বড় হয় গেছে, যার কারনে কাপড়টা আগে ঠিকঠাক হলেও এখন ছোট মনে হচ্ছে। কাপড়ের কোন পরিবর্তন হয় না। তেমনি আমরা যে বলি দিন দিন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে, আসলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না। আমরা যেই মুদ্রার বিনিময়ে পণ্য কিনছি সেই টাকার দাম কমে যাচ্ছে। পণ্যের দাম কাপড়ের মতই স্থির। পণ্যের দাম বাড়ছে না। যেহেতু টাকার মান কমে যাচ্ছে তাই অধিক টাকা দিয়ে সমমূল্যের জিনিস কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে যদি বাংলাদেশের কথা চিন্তা করি তাহলে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ৭% যদিও এটা প্রতি বছর বেড়েই যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির হার ৭% বলতে বুঝায় আপনার হাতে থাকা ১০০ টাকার নোটটির মূল্য প্রত্যেক বছর ৭ টাকা করে কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ আজকে আপনার কাছে যে ১০০ টাকার নোট আছে আগামী এক বছর পর এই ১০০ টাকার নোটের মুল্য ৯৩ টাকার সমান হয়ে যাবে। এবং এই হারে প্রতিবছর কমতে থাকবে। বাস্তব জীবনে আসলেই কি টাকার মূল্য কমে যায়? এর প্রমান পেতে একটু অতীতের দিকে আলোকপাত করা যাক। আজকে থেকে ২০ বছর আগে ১০ টকার নোটের কি পরিমান মূল্য ছিল? ১০ টাকা দিয়ে আপনি কি কি করতে পারতেন? অন্তত ১ কেজি চাউল তো কিনা যেত। কিন্ত বর্তমানে ১ কেজি চাউল কিনতে আপনাকে গুনতে হবে কমপক্ষে ৫০ টাকা। তাহলে এই গত ২০ বছরে ৫০ টাকার নোটটি ৪০ টাকা মূল্য হারিয়েছে।২০০০ সালের ১০ টাকা আর আজকের ৫০ টাকা সমান। ১০ টাকা দিয়ে আজকের দিনে একটা ছোট বিস্কুটের প্যাকেট ও পাওয়া যায় না। আগামি ২০ বছর পর ১০ টাকা দিয়ে হয়ত একটা চকলেট পাওয়া যাবে না। মুদ্রার এই মুল্য হারানোর প্রকিয়াটর নামই হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি।


Reason of Influation :

একাধিক কারন রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির বাড়ার পিছনে। যেমন: অর্থনৈতিক উন্নতি। যখন কোন দেশ অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালি হতে থাকে তখন দেশের জনগনের কাছে বেশি টাকা থাকবে বিভিন্ন জিনিসে খরচ করার জন্য। যার কারনে বাজরে পণ্যের demand বাড়বে। এবং demand বাড়লে অবশ্যই ওই পণ্যের দামও বাড়বে। এধরনের influation কে বলা হয় Demand Poll Influation.
মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আরেকটি কারন হতে পারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ; এখন কাঁচামালের দাম বিভিন্ন কারনে বাড়তে পারে। যেমন: মনেকরুন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা খারাপ আবহাওয়ার কারনে শস্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা তেলের দাম বেড়ে যাওয়া। এসব কারনে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। কারন যেসব কোম্পানি এসব কাঁচামাল থেকে পণ্য উৎপাদন করে স্বাভাবিকভাবে তাদেরকেও বেশি দামে পণ্য বিক্রয় করতে হবে, যেহেতু উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। অথবা সরকার কতৃক নতুন কোন কর আরোপিত হলেও দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়তে পারে। এধরনের influation কে   বলা হয় Cost Pushing Influation.


মুদ্রার মূল্য হ্রাস :


বিভিন্ন কারনে একটি দেশের মুদ্রার মূল্য কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারন হচ্ছে  সরকার কতৃক অধিক মুদ্রা ছাপানো। এবং এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর প্রক্রিয়া মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার। অধিক মুদ্রা ছাপানোর ফলে মুদ্রাস্ফীতি Hyper Influation এর রূপ নিতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে যদি ১০% হারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে তাহলে সাধারণ মানুষ বলবে জিনিসপত্রের অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে।  কিন্তু ভেনিজুয়েলায় ২০১৬ থেক ২০১৯ সালের এই সময়ে influation rate ছিল ৫ কোটি %। মুদ্রাস্ফীতির হার ৫০০০০০০০% এ পৌছে গিয়েছিল। এটাকেই HYPER INFLUATION বলে। একসময় ভেনিজুয়েলায় আপনি কফি কিনতে গেলে আপনার খরচ করতে হত ৪৫০ ভেনিজুয়েলিয়ান মুদ্রা। Hyper Influation এরপর সেই কফির দাম এখন দাড়িয়েছে  ১ মিলিয়ন ভেনিজুয়েলিয়ান মুদ্রা। যদি সরকার এই হারে মুদ্রা ছাপাতে থাকে যাতে প্রত্যকের কাছে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা থাকে তবে জিনিসের দামও তো সেই হারে বেড়ে যাবে। ২০০৮ সালে এমনই চরম মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। দেশটির তখন এমন অবস্থা হয়ে হিয়েছল যে জিম্বাবুয়ের তৎকালীন সরকার ১ মিলিয়ন এমনকি ১ বিলিয়ন ডলারের নোট ছাপানো শুরু করেছিল। এবং একটি ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নোটও ছিল জিম্বাবুয়েন ডলারের। এবং সেই ১ ট্রিলিয়ন জিম্বাবুয়েন ডলারের মূল্য ছিল শুধুমাত্র 1 US. DOLLAR এভাবে HYPER INFLUATION এর কারনে কোন দেশের কাগজের মুদ্রা এতটা মুল্য হরাতে পারে।


How to Control Influation :

আসলে কাগজের টাকার এই পুরা system টাই একটা অনেক প্রতারনা। কাগজের টাকার ইতিহাস বিস্তারিত। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বটা প্রধানত সেই দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের উপর ন্যস্ত থাকে। কেন্দ্রিয় ব্যাংক মূলত সুদের হার কম বেশি করার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মনে করুন বাংলাদেশ ব্যাংক যখন সুদের হার বাড়াবে তখন কম সংখ্যক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী হবে। এবং ব্যাংক গুলাও তাদের সুদের হার বাড়িয়ে দিবে যাতে কম সংখ্যক মানুষ ঋণ নিতে আগ্রহী হয়। যার কারনে সাধারন মানুষের কাছে টাকার সরবরাহ কম থাকবে ফলে মুদ্রাস্ফীতির হার কমবে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে দেয় তাহলে মানুষ ও ঋণ নিতে বেশি আগ্রহী হবে যার কারনে টাকার সরবারাহ বেড়ে যাবে এবং সবার কাছে বেশি পরিমানে টাকা থাকার কারনে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে যাবে। তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র কার্যকর উপায় হচ্ছে লাগামহীন ভাবে কাগজের টাকা ছাপানো বন্ধ করা।


How to Stay Safe From Inflation :

মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাচার সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে বিনিয়োগ। টাকা ব্যাংকে ফেলে রাখালে মুদ্রাস্ফীতির কারণে আপনার টাকার মূল্য কমতে থাকবে। কিন্তু আপনি যদি  বিনিয়োগ করে রাখেন তবে আপনার উপর মুদ্রাস্ফীতির কোন প্রভাব পড়বে না। বিনিয়োগের কিছু জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে - স্বর্ণ, জায়গাজমি, ক্রিপ্টোকারেন্সি, মিউচুয়াল ফান্ড ইত্যাদি। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেকটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যেটা হচ্ছে আপনার বিনিয়োগ থেকে বছরে কত % রিটার্ন আসবে। যেহেতু বর্তমান বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৭% তাই বছরে কমপক্ষে ৭% রিটার্ন তো নিশ্চিত করতেই হবে।

 

ইতিকথা :

যতদিন এই কাগজের মুদ্রা থাকবে ততদিন মুদ্রাস্ফীতি বাড়তেই থাকবে। এবং যদি এভাবে চলতে থাকে তবে পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশকেই কোন একসময় জিম্বাবুয়ে এবং ভেনিজুয়েলার মত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে সেটা হোক আমেরিকা, ফ্রান্স, বৃটেন অথবা রাশিয়া। কাগজের মুদ্রার বৈশিষ্ট্যই এটা। বিস্তারিত

Post a Comment

Previous Post Next Post