PAPER CURRENCY অর্থাৎ বর্তমান সারা বিশ্বে প্রচলিত কাগজের মুদ্রা একটি অনেক বড় প্রতারনা এবং।  কেন এবং কিভাবে সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন একটু পরে।


বিনিময় প্রথা থেকে মুদ্রা আবিষ্কারের সফল কার্যকরী ধাপ ছিল GOLD STANDARD. GOLD STANDARD এর বিলুপ্তি ঘটানোর পর, আমেরিকা নতুন মুদ্রা ব্যাবস্থা নিয়ে আসে যার নাম ছিল BRETTON WOOD SYSTEM. এবং পরিবর্তীতে BRETTON WOOD SYSTEM এর হাস্যকর অবসান ঘটিয়ে জন্ম দেওয়া হয় FIAT CURRENCY নামে বর্তমান প্রচলিত মূল্যহীন কাগজের মুদ্রার। 

 বিনিময় প্রথা :

কাগজের টাকা আবিষ্কারের অনেক আগে কোন একসময় যখন মানুষের কাছে টাকা ছিল না তখন লোকজন বিভিন্ন জিনিস কেনা-বেচা করার জন্য Barter System বা বিনিময় প্রথা অবলম্বন করত। মনে করুন আমার কাছে একটা গরু আছে আপনার কাছে এক বস্তা গম আছে। এখন আমার গম দরকার কিন্তু কোন কিছুর বিনিময় ছাড়া তো আপনি আমাকে গম দিবেন না। তাই আমি আপনাকে বললাম এই যে দেখেন আমার কাছে তো গরু আছে একটা কিন্তু আমার গম দরকার। আপনি আমার গরুটা রেখে দিন আপনার এক বস্তা গম আমাকে দিয়ে দিন। আপনি খুশিমনে আমাকে গম দিয়ে দিলেন তার বিনিময়ে আমি আপনাকে আমার গরুটা দিয়ে দিলাম। আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে ভালোই তো।কিন্তু মনেকরুন আপনার কাছে একটা গরু আছে আর আমার কাছে একটা আপেল আছে। এখন আমরা কিভাবে বিনিময় করব। একটা আপেলের জন্য তো কখনোই গরু দিয়ে দিবেন না। কারন একটা গরু আর একটা আপেলের মূল্য তো সমান নয়। এ সমস্যার সমাধানের লক্ষেই আস্তে আস্তে মানুষ মূল্য নির্ধারনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে থাকে।

 


মুদ্রার বিবর্তন :

বিনিময় প্রথার যেসব কমতি আছে সেগুলো মিঠানোর জন্য আলাদা আলদা সভ্যতা কিছু আলাদা আলাদা বস্তুকে মুদ্রা হিসাবে ব্যাবহর করা শুরু করে। যেমন সেই সময় কিছু দেশে সামুদ্রিক শামুক বা ঝিনুককে মুদ্রা হিসাবে গ্রহন করা হত। যেগুলো বর্তমানে আমরা কড়ি নামেও চিনে থাকি।কোন একসময় কিছু দেশে এগুলোকে মুদ্রা হিসাবে অর্থাৎ যে কোন পণ্যের বিপরীতে কড়ি গ্রহন করা হত।প্রাকৃতিক শীলাখন্ড থেকে তৈরীকৃত কয়েন ও কিছু দেশে মুদ্রা হিসাবে প্রচলিত ছিল। এবং সেগুলো তখন বর্তমান কাগজের টাকার মতই ব্যবহার হত। এবাবে অনেক দিন চলতে থাকে। এবং বিনিময় প্রথা থেকে এটি যথেষ্ট সুবিধাজনক ও ছিল। একটি আপেলের জন্য আর পুরা গরু দিতে হচ্ছে না। এরপর আসল আবার নতুনত্ব। মানুষ মুদ্রা হিসাবে মূল্যবান ধাতু ব্যাবহার করা শুরু করল। যেমন : সোনা ও রূপা। মানুষ দেখল কড়ি বা প্রাকৃতিক শিলার চেয়ে তো এসব মূল্যবান ধাতুই সুবিধাজনক। সহজে বিনিময় করা যায় এবং এসব ধাতুর মূল্য এর ভিতরেই অন্তর্নিহিত থাকে। অর্থাৎ স্বর্ণের দাম অন্য কোন কিছুর সাপেক্ষে নির্ধারন করা হয় না স্বর্ণ অথবা রূপার মূল্য এর ভিতরেই থাকে। এভাবে ধীরে ধীরে সব দেশই সোনা এবং রূপাকে মুদ্রা হিসাবে গ্রহন করা শুরু করে। এবং আপনি যদি অতীতের দিকে একটু তাকান তবে দেখতে পাবেন যে বেশিরভাগ বাণিজ্যই হত স্বর্ণ অথবা রূপার মাধ্যমে। এরপরেও টাকার বিবর্তন বা আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। কারন ১ কেজি স্বর্ণের কয়েন নিয়ে ঘোরাফেরা করা তো আর সম্ভব নয়। বর্তমানে আমরা ৫ টা পয়সাও পকেটে রাখতে চাই না। তাহলে শত শত পয়সা তারা কিভাবে বহন করত? এই ভাবনা থেকে চলতে থাকে অনুসন্ধান, কিভাবে মুদ্রাকে আরও উপযোগী করে তোলা যায়। এরপর ১৮৩৪ থেকে ১৮৮০ সালের আলাদা আলাদা  দেশে চালু হয় GOLD STANDARD পদ্ধতি.

 

What is Gold Standard :

সাধারনত আমরা যখন Trailers অথবা Laundry তে আমাদের কাপড় দিই তখন বিনিময়ে তারা আমাদের একটা রসিদ দেয়। পরবর্তিতে আমরা সেই রসিদ নিয়ে গেলে দোকানদার আমাদের কাপড় ফেরত দেয়। এই পদ্ধতিটাই অনুসরণ করত GOLD STANDARD system. এক্ষেত্রে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলো কিছু রসিদ নিয়ে আসে। এবং সাধারন মানুষদের বলল যে, যেহেতু স্বর্ণের কয়েন পরিবহন করা অনেক ঝামেলা তাই তোমরা চাইলে তোমাদের স্বর্ণমুদ্রা ব্যাংকের কাছে জমা রাখতে পার এবং তার বিপরীতে ব্যাংক তোমাদের একটি রশিদ প্রদান করবে। যেটা দিয়ে তোমরা বাণিজ্য করতে পারবে বিনিময় করতে পারবে। এবং কেউ যদি এই রসিদ ব্যাংক কে জমা দেয় তবে ব্যাংক সেই ব্যাক্তি ওই রসিদের সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। মনেকরুন আমার কাছে ১০০ টা স্বর্ণমুদ্রা আছে আমি সেটা ব্যাংকে জমা দিয়ে ১০০ টা রসিদ নিয়ে আসলাম যার প্রত্যকটির মূল্য ১ স্বর্ণমুদ্রা। এখন আমি আপনার কাছ থেকে ১ টা আপেল ক্রয় করলাম বিনিময়ে আপনাকে ২ টা রসিদ দিলাম যার মূল্য ২ স্বর্ণমুদ্রা। এখন আপনি চিন্তা করলেন যে আমি এসব রসিদ রাখব না, আমার স্বর্ণমুদ্রাই লাগবে। এখন আপনি যদি ব্যাংকে গিয়ে রশিদ ২ টা দিয়ে বলেন আমি রসিদ চাই না, আমাকে স্বর্ণমুদ্রা ফেরত দাও। তবে ব্যাংক আপনাকে ওই রসিদের বিনিময়ে ২ টা  স্বর্ণমুদ্রা দিতে বাধ্য। এই পদ্ধতিটাই হল GOLD STANDARD. GOLD STANDARD এর ক্ষেত্রে ব্যাংকের কাছে যতটুকু স্বর্ণমুদ্রা জমা আছে ঠিক ততটুকু স্বর্ণের মূলের সমপরিমাণ রসিদ তারা বানাতে পারে। ব্যাংক চাইলেই যত খুশি রসিদ ছাপাতে পারত না। কারন রসিদ গুলোর বিপরীতে তো তাদের সেই পরিমান স্বর্ণ গ্রাহকদের ফেরত দিতে হবে। তাই ব্যাংকের কাছে যদি ১০০০ স্বর্ণমুদ্রা জমা থাকে তাহলে ব্যাংক সেই স্বর্ণমুদ্রার সমপরিমান মূল্যের রসিদই তৈরী করতে পারে। কোন দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক কতৃক ইস্যুকৃত রসিদই তৎকালীন সময়ে সেই দেশের মুদ্রা হিসাবে ব্যাবহৃত হত। দেশে ভেদে মুদ্রার নামও ছিল ভিন্ন। তবে system একটায়। সেই মুদ্রা ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংক আপনাকে সমমূল্যের স্বর্ণ ফেরত দিতে বাধ্য। আপনি চাইলেই যে কোন সময় আপনার মুদ্রাকে স্বর্ণে রূপান্তর করে ফেলতে পারেন এটা হল GOLD STANDARD এর সুবিধা। মোট কথা GOLD STANDARD এর সময় মুদ্রাগুলো 100% BACKED by GOLD ছিল। এখন প্রশ্ন আসে তাহলে GOLD STANDARD কেন বিলুপ্ত হল? সমস্যা হল WORLD WAR 1. যেটা শুরু হয়েছিল ১৯১৪ সালে এবং ১৯১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এ সময় সব দেশ নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের সব দেশ, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া এরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লেগে যায়। যুদ্ধের ফলে প্রতিটা দেশের খরচ বেড়ে গেল। খরচ বাড়ার কারনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল; যদ্ধের সময় অস্ত্রশস্ত্রের পিছনে খরচ হয়, খাদ্য আমদানি করতে খরচ হয়, প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিভিন্ন তাহবিল। এবং যুদ্ধের কারনে দেশের ভেতর উৎপাদন ও কমে যায়, যার কারনে স্বাভাবিকের তুলনায় যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যে কোন দেশের খরচের পরিমান বেড়ে যায়। যার কারনে GOLD STANDARD system এ একটু পরিবর্তন আসে আসে এবং জন্ম হয় GOLD EXCHANGE STANDARD.

 

What is GOLD EXCHANGE STANDARD :

GOLD STANDARD এর system ছিল সাধারন জনগন চাইলে তাদের হাতে থাকা রসিদ ব্যাংকে ফেরত দিয়ে তার সমমূল্যের স্বর্ণ ফেরত নিতে পারে। GOLD EXCHANGE STANDARD এ প্রথমত এই সুবিধা অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে সমমূল্যের স্বর্ণ বিনিময় করতে পারার প্রকিয়া বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ  GOLD EXCHANGE STANDARD এ আপনি চাইলেই ব্যাংকে আপনার মুদ্রা ফেরত দিয়ে সমমূল্যের স্বর্ণ ফেরত নিতে পারবেন না। এবং আগে  GOLD STANDARD এ মুদ্রা 100% GOLD BACKED থাকত,  GOLD EXCHANGE STANDARD এ সেটা 40% BACKED BY GOLD করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ  GOLD STANDARD এর সময় আপনার কাছে যদি একটা ১০০ টাকার নোট থাকত তাহলে সেটার বিপরীতে ব্যাংকে ১০০ টাকার সমমূল্যের স্বর্ণ জমা থাকত। কিন্তু  GOLD EXCHANGE STANDARD এ আপনার কাছে থাকা ১০০ টাকার বিপরীতে মাত্র ৪০ টাকার সমমূল্যের স্বর্ণ জমা থাকবে। তাহলে ব্যাপারটা কি হল? প্রথমে 100% BACKED BY GOLD ছিল। মানুষ চাইলেই কাগজের রসিদের বা মুদ্রার বিনিময়ে সমমূল্যের স্বর্ণ ফেরত নিতে পারত। 1st WORLD WAR চলল WORLD WAR এর জায়গায়, এদিকে ম নতুন system আসল GOLD EXCHANGE STANDARD. 40% BACKED BY GOLD করে দেওয়া হল। এবং সাধারন জনগন চাইলেও ব্যাংক ইস্যুকৃত কাগজের রসিদের বিনিময়ে সমমূল্যের স্বর্ণ ফেরত নিতে পারবেন না। এবং পৃথিবীর সব পরাশক্তি দেশগুলো এটাকেই STANDARD বানাল।

 

এরপর শুরু হয় USA SUPER POWER হয়ে ওঠার খেলা। যখন একটা দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তখন সেই দেশের কারখানা গুলোও যুদ্ধ সরঞ্জাম বানাতে শুরু করে। যেমন মনে করুন গাড়ি তৈরীর কারখানায় মেশিনগান উৎপাদন হতে থাকে। করন যুদ্ধের সময় গাড়ি কে কিনবে, যুদ্ধের সময় যেহেতু অস্ত্রশস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেশি থাকে তাই সব কোম্পানিই চাই অস্ত্র বা অন্যান্য সরঞ্জাম উৎপাদন এবং সরবারাহ করার মাধ্যমে মুনাফা হাসিল করতে। যখন জার্মানি, হাঙ্গেরি মিলে রাশিয়া বা ফ্রান্সের সাথে লড়ায়ে ব্যাস্ত তখনও ঠিক এমনটাই হয়েছেছিল। যার কারনে খাদ্য-শস্য সহ প্রয়োজনীয় বাকি জিনিসপত্র যোগান দিতে দেশগুলোকে নির্ভর করতে হয় অন্যান্য দেশের উপর। এসময় আমেরিকা বলেছিল WORLD WAR চলছে ভাল কথা কিন্তু আমরা কারো বিপক্ষে না। এ যুদ্ধে আমরা সম্পূর্ন নিরপেক্ষ। আপনাদের যদি কোন জিনিসপত্রের দরকার হয় তাহলে প্রয়োজনীয় পণ্য  আমরা সরবরাহ করব বিনিময় আমাদের স্বর্ণের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। ইউরোপীয়ান দেশ গুলো যেহেতু এই সময় অস্ত্র উৎপাদনে ব্যাস্ত ছিল তাই খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বস্তু সব তারা আমেরিকা থেকে আমদানি করতে লাগল। এবং এদিকে আমেরিকাও প্রচুর স্বর্ণ আত্মস্থ করে নেয়। পুরা WORLD WAR 1 আমেরিকার জন্য খুবই লাভজনক ছিল। কারন প্রচুর স্বর্ণ তারা দখল করে ফেলেছিল এই কয়েকবছরে। এরপর WORLD WAR 2 শুরু হল এবং আমেরিকা আবারও একই পন্থা অবলম্বন করল। এবং এবারও তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গুলোকে পণ্য রপ্তানি করে আরো স্বর্ণ নিজেদের দখলে নিয়ে নিল। শেষপর্যন্ত কি হল? দুইটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমেরিকা পৃথিবীর মোট স্বর্ণের সরবারাহের প্রায় ২/৩ স্বর্ণই নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছিল। ৩ ভাগের বাকি ১ ভাগ স্বর্ণ পৃথিবীর বাকি দেশগুলোর মধ্যে সমান্য সামান্য করে ছিল। এরমধ্য দিয়ে আমেরিকা হয়ে উঠল সবচেয়ে পরাশক্তি।  সামরিক এবং অর্থনেতিক দুই দিক থেকে আমেরিকা শক্তিশালি হয়ে ওঠে।

 

BRETTON WOOD SYSTEM :

যেহেতু তখন ইউরোপের বাকি দেশ গুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল তাই আমেরিকা এর সুযোগ নিল। আমেরিকা বলল, এখন পৃথিবীর ৩ ভাগের ২ ভাগ স্বর্ণের রিজার্ভই তো আমাদের কাছে। যেহেতু তোমাদের কাছে কোন স্বর্ণের  রিজার্ভ নেই তোমাদের মুদ্রা তো GOLD BACKED করতেই পারবে না। আমেরিকা বাকি দেশগুলোকে প্রস্তাব দিল তোমারা আমাদের US DOLLAR ক্রয় করে রিজার্ভ কর এবং তোমাদের কারেন্সি গুলো হবে US DOLLAR BACKED. আর আমাদের US DOLLAR তো GOLD BACKED যেহেতু পৃথিবীর ২/৩ ভাগ স্বর্ণই আমাদের রিজার্ভে। এখন যেহেতু বাকি দেশগুলো অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল তাই তাদের আমেরিকার প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না। এভাবে আস্তে আস্তে US DOLLAR বিশ্বের প্রধান রসিদ হয়ে ওঠে। কারন বাকি দেশগুলোর মুদ্রা US DOLLAR BACKED. এখন সমস্যা হচ্ছে যখন এই BRETTON WOOD SYSTEM প্রতিষ্ঠা হয় তখন এমন কোন নিয়ম কানুন ছিল না যে, কত পরিমান US DOLLAR ছাপাতে তাদের রিজার্ভে কি পরিমান স্বর্ণ রাখতে হবে। ফলশ্রুতিতে আমেরিকা যত ইচ্ছা US DOLLAR ছপাতে পারত। এবং আমেরিকা করেছেও ঠিক তাই। এরপর ১৯৬০ সালে তৎকালীন ফ্রান্সের পেসিডেন্ট Charles De Gaulle লক্ষ করলেন যে, আমেরিকা অন্যান্য দেশের সাথে প্রতারনা করছে কারন তারা ইচ্ছামত US DOLLAR ছাপাচ্ছে যার কারনে বাকি দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে। এবং Charles De Gaulle বললেন যে, আমাদের দরকার নেই তোমাদের BRETTON WOOD SYSTEM. এই নাও তোমাদের US DOLLAR এবং আমাদের স্বর্ণ ফেরত দাও। ফ্রান্সের দেখাদেখি বাকি দেশগুলোও বলা শুরু করলো যে আমাদেরও আমাদের স্বর্ণ ফেরত দাও। যেহেতু আমেরিকা বলেছিল আমাদের US DOLLAR BACKED BY GOLD তাই তারা US DOLLAR এর বিনিময়ে সমপরিমানের স্বর্ণ ফেরত দিতে বাধ্য ছিল। এতদিন আমেরিকা ইচ্ছামত US DOLLAR ছাপানোর কারনে তাদের ছাপানো সম্পূর্ন US DOLLAR এর সমমূল্যের স্বর্ণ তাদের রিজার্ভে ছিল না। এখন ফ্রান্সসহ বাকি দেশগুলো কে US DOLLAR এর সমমূল্যের স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার পর আমেরিকার স্বর্ণের রিজার্ভ এতটা কমে গিয়েছিল যে, এরপর যদি আরও দেশ তাদের স্বর্ণ ফেরত চাই তো তাহলে আমেরিকা আটকে যেত। এবং এরপরে আমেরিকা অবস্থা বেগতিক দেখে তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Richard Nixon ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে US DOLLAR আর GOLD BACKED থাকবে না। অর্থাৎ এতদিন যে US. DOLLAR GOLD BACKED ছিল মানে কোন দেশ চাইলেই US. DOLLAR এর  বিনিময়ে স্বর্ণ ফেরত নিতে পারত, এখন থেকে আর সেই সুযোগ থাকছে না। আমেরিকা US. DOLLAR এর বিনিময়ে স্বর্ণ ফেরত দিতে বাধ্য না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে কোন দেশ আমেরিকার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয় নি। যেহেতু তখন আমেরিকা পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী দেশ ছিল তাই সবাই আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। আগে সব দেশের মুদ্রা US. DOLLAR BACKED ছিল ; আর US. DOLLAR ছিল GOLD BACKED. কিন্তু এখন যেহেতু US. DOLLAR আর GOLD BACKED না তাই এই মুদ্রা গুলো শুধুমাত্রই রসিদ হিসাবেই থেকে গেছে। এটা এখন এমন একটা রসিদ যেমনটা লন্ড্রির রসিদ গুলা হয়ে থাকে। দুইটাই কাগজের টুকরা। মনে করুন লন্ড্রির মালিক আপনাকে রসিদ টা দিয়ে আপনার কাপড় নিয়ে পালিয়ে গেছে এখন আপনি এই রসিদ নিয়ে করবেন কি? কি মূল্য আছে এখন আর রসিদের? রসিদের মূল্য ততক্ষণ আছে যতক্ষণ ওই ধোপা আছে। কাগজের টাকাও একই, প্রচলিত কাগজের মুদ্রা একটা রসিদ মাত্র যেটার উপর বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ছবি আর কিছু সংখ্যা বসিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ধোপার মত পালিয়ে যায় তবে আপনার হাতে থাকা ১০০০ টাকার নোট নিমিষেই মূল্যহীন হয়ে পড়বে।

 

Fiat Currency :

বর্তমানে কোন GOLD BACKING ছাড়া অনবরত যে কাগজের টাকা সরকারের ইচ্ছামত ছাপানো হচ্ছে এটাই হল FIAT CURRENCY. যেটা সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা। এই যে প্রতারনা শুরু ; ধীরে ধীরে এই প্রতারনার আকার আকাশচুম্বী হয়ে ওঠছে।  একবার যখন GOLD BACKING শেষ হয়ে গেছে এখন তো এই কাগজের টাকার বিপরীতে মূল্যবান কিছুই নেই। যেমন টা আগে GOLD STANDARD এর ক্ষত্রে ছিল। আসলে স্বর্ণের মূল্য কোন কিছুর উপর নির্ভর করে না স্বর্ণের মূল্য তার ভিতরেই অন্তর্নিহিত থাকে। ২ গ্রাম স্বর্ণ সেটা জুয়েলারি অথবা পাওড়ার যেই আকারেই থাকুক না কেন তার মূল্যের কোন পরিবর্তন হবে না। কিন্তু আপনার টাকা টা ছিড়ে গেলে সেটা সাথে সাথে তার মূল্য হারিয়ে ফেলবে। বর্তমানে মুদ্রাব্যবস্থা থেকে যেহেতু BACKING system বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাই সরকার চাইলেই ইচ্ছামত টাকা ছাপাতে পারে। GOLD STANDARD এর বেলায় কি হত? স্বর্ণের সরবারাহ যেহেতু সীমিত, আর সরকার চাইলেও স্বর্ণ বানাতে পারে না তাই টাকাও সীমিত আকারে ছাপাতে হত। কিন্তু এখন তো টাকা ছাপাতে কোন স্বর্ণ রিজার্ভে রাখতে হচ্ছে না। প্রিন্টার বের কর আর টাকা বানাও। এই অবস্থা শুধু বাংলাদেশ কিংবা আমেরিকার সমস্যা না। পুরা বিশ্বজুড়েই অবাধে চলছে এই প্রতারনা। এবং কোন লিমিট ছাড়া টাকা প্রিন্ট করার আরেকটা সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি। টাকার মূল্য দিন দিন কমে যাচ্ছে।  বাংলাদেশে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হার ৭% অর্থাৎ আপনার আজকের ১০০ টাকা ১ বছর পর ৯৩ টাকা হয়ে যাবে। এভাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকলে একসময় এটা ভয়াবহ আকার ধারন করবে যাকে Hyper Influation বলে।

 

Why Fiat Currency Scam :

আমরা Fiat Currency অথবা কাগজের নোট ব্যাবহার করছি কেন? স্বর্ণের মত এর কি নিজস্ব কোন মূল্য আছে? না ; কিন্তু তাও কেন আমরা ব্যবহার করছি কেনই বা কাগজের টাকার প্রচলন কমছে না। কারন হল আপনি এখনো বিশ্বাস করেন কাগজের টাকার মূল্য আছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি যে কাগজের টাকার মূল্য আছে। আমরা সবাই এখনো বিশ্বাস করি কাগজের টাকার মূল্য আছে তাই এখনো কাগজের টাকার প্রচলন আছে। আমি ৫০০ টাকার নোট দিলে দোকানদার আমাকে ৫০০ টাকার সমমূল্যের পণ্য দিবে। এজন্য এখনো কাগজের টাকার প্রচলন আছে। দোকানদার বিশ্বাস করে সে এই ৫০০ টাকা বাস ড্রাইভারকে দিলে ড্রাইবার তাকে গন্তব্যে পৌছে দিবে। কিন্ত দোকানদার বা ড্রাইভার কোন এই কাগজের বিনিময়ে পন্য বা সেবা দিচ্ছে? কারন তারা বিশ্বাস করে এই কাগজ সে অন্য কাউকে দিলে সেও তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবে। যদি কেউ আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকার নোট টা নাও নেয়, এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব আমাকে এই ৫০০ টাকার বিনিময়ে সমপরিমান দ্রব্য ক্রয়ের ব্যাবস্থা করে দেওয়া। কিন্তু Rechard Nexon যেমন চুক্তি ভঙ্গ করে US. DOLLAR এর বিপরীতে GOLD BACKING বাতিল করে দিয়েছিলেন, কালকে যদি বাংলাদেশ সরকার ঘোষনা করে আমরা কাগজের টাকাকে আর বৈধ মুদ্রা হিসাবে গ্রহন করব না। তবে আপনার হাতে থাকা ৫০০ টাকা কে নিবে? কে আপনার এই কাগজের টুকরার বিনিময়ে সেবা দিবে? এখন প্রশ্ন আসতে পারে সরকার কি এমনটা করতে পারে? উত্তর হচ্ছে অবশ্যই পারে। ২০১৬ সালে ভারত প্রচলিত ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোটকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে মূল্যহীন হয়ে পড়ে কয়েক কোটি ডলার সমমূল্যের ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোট। কালকে যদি কাগজের টাকায় নিষিদ্ধ ঘোষনা করে দেয় সরকার? যেহেতু টাকার বিপরীতে কোন GOLD BACKING নেই আপনি সমমূল্যের স্বর্ণও পাবেন না। আবার বাংলাদেশি টাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও কিছু করতে পারবেন না।  কি মূল্য থাকবে আপনার জমানো কোটি টাকার? চাপের মুখে পড়লে সরকার যে কোন ধরনের পদক্ষেপই নিতে পারে। US. DOLLAR এর GOLD BACKING থেকে সরে আসা এবং ভারতের DEMONETIZATION এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Post a Comment

Previous Post Next Post