Financial Freedom বা আর্থিক স্বাধীনতা হল নির্দিষ্ট কোন কর্মসংস্থান কিংবা অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে আপনার বাকি জীবনের ব্যয় বহন করার জন্য যথেষ্ট আয় বা সম্পদ থাকার অবস্থা। এমনটা কি আপনার সাথে কখনো হয়েছে যে, আপনি যখন কোন নতুন জিনিস নেওয়ার কথা ভাবছেন  অথবা এই ছুটিতে পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবের সাথে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, এমন সময় হঠাৎ আপনার মনে পড়ে আগামী সপ্তাহে আপনাকে বাসা ভাড়া দিতে হবে, কার অথবা বাইকের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে, ইন্সুরেন্স, ক্রেডিট কার্ড বিল এমন আরও কতকিছুর পেমেন্ট করতে হবে। এবং আপনার কাছে খুবই সীমিত টাকা আছে। এখন হয় আপনি আপনার জীবন উপভোগ করতে পারেন অথবা বিল পে করতে পারেন। এমন পরিস্থিতির শিকার আমরা প্রায়ই হয়ে থাকি। আপনিও যদি কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার হন তবে আপনিও আর্থিক ভাবে স্বাধীন না। তাই আজকে আমরা সহজ ভাষায় কয়েকটি ধাপ আলোচনা করব আর্থিক ভাবে স্বাধীন হওয়ার।

YOU MUST LIVE LIKE NO ONE ELSE RIGHT NOW, SO THAT YOU CAN LIVE LIKE NO ONE ELSE LATER

অর্থাৎ, যদি আপনি ভবিষ্যতে ১% লোকেদের মত জীবনযাপন করতে চান তবে আপনাকে এখন ওই সব কাজ করতে হবে যেগুলো বাকি ৯৯% মানুষ করছে না। The Total Money Makeover বইয়ের লেখক Dave Ramsey বলেন, Financial Freedom is 80% behaviour and 20% knowledge. আজকে আমি আপনাদের সাথে উক্ত বই থেকে কয়েকটি পয়েন্ট শেয়ার করব যার সাহায্যে আপনারা আর্থিক স্বাধীনতা(Financial Freedom) লাভ করতে পারেন।


পয়েন্ট নাম্বার ১ 

কোন ব্যক্তির শারীরিক সুস্থতা একদিনে নষ্ট হয়ে যায় না। আপনার স্বাস্থ্য আস্তে আস্তে খারাপ হতে শুরু করে। আপনার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চা না করার কারনে আপনার শরীরে অনেক ছোট ছোট পরিবর্তন আসা শুরু করে। যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি দৃশ্যমান হয় না অথবা দেখার পরেও তা গুরুত্ব না দিয়ে অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন করতে থাকেন। যার কারণে ভবিষ্যতে আপনি সম্মুখীন হতে পারেন নানা ধরনের মারাত্মক ব্যাধির। একই ধারণা আপনার ফাইন্যান্স এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি চাইলেই একরাতে যেমন ১০ কেজি ওজন কমাতে পারবেন না, ঠিক একইভাবে আপনি চাইলেও একরাতে মিলিয়নিয়ার হতে পারবেন না। আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা কখনো একদিনে খারাপ হয় না বরং আপনার নেওয়া অতীতের ছোট-বড় সিদ্ধান্তই আপনার আজকের এই অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য দায়ী। এজন্য সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য আপনাকে সবার আগে আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থার সব সমস্যা দেখতে হবে। দেখুন যে, আপনার মাসিক আয় কত এবং ব্যয় কত, আপনি কোথায় আপনারা আয়ের বেশিরভাগ অংশ খরচ করেন বা প্রতিমাসে আপনি কত টাকা জমা করে ইত্যাদি। উদাহরণ হিসেবে মনে করুন আপনি আপনার স্বপ্নের জীবন যাপন করছেন। আপনার কাছে ঐ প্রত্যেকটা জিনিসই আছে যেটা আপনি চান। ভালো ঘর, দামি মোবাইল, ব্র্যান্ডেড কার। কিন্তু এরপরেও আপনার ক্রেডিট কার্ড এর লিমিট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আপনার লোনের কিস্তি পরিশোধ করতেই আপনার ইনকামের বড় একটা অংশ খরচ হয়ে যায়। এর পরও আপনি জিনিসপত্র কিনতে থাকেন। এই সমস্ত লক্ষণ এটা নির্দেশ করে যে আপনি একটি Financial bubble এর মধ্যে আছেন যেটা যেকোনো সময় বিস্ফোরন হতে পারে। এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করার পর আপনি আপনার আর্থিক অবস্থা উপেক্ষা করা বন্ধ করুন এবং অতি শীঘ্রই গুরুত্বসহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।


পয়েন্ট নাম্বার ২ 

লেখক বলেন "If anything that can go wrong will go wrong" অর্থাৎ যদি কিছু খারাপ হতে পারে এবং আপনি তার জন্য প্রস্তুত না থাকেন তবে সটা অবশ্যই খারাপ হবে। মনে করুন আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আপনি দায়িত্বশীল ব্যাক্তি হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলবেন এবং এদিক ওদিক অপ্রয়োজনীয় খরচ করার বদলে সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও করবেন। কিন্তু পরের দিনই কোন জরুরী প্রয়োজনে আপনার টাকাগুলো খরচ করতে হলো যার কারনে আপনার বিনিয়োগ এবং জমানোর সমস্ত পরিকল্পনা নষ্ট হয় যায়। এজন্য লেখক পরামর্শ দেন সবার আগে আপনি একটা "emergency fund" তৈরী করুন। লেখকের মতে এটা হওয়া দরকার ১০০০ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় হিসাব করলে ৯৫ হাজার টাকা হয়। তবে emergency fund কোথাও বিনিয়োগ করা যাবে না। মনে রাখবেন emergency fund আপনার জন্মদিন পালন অথবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এসব করার জন্য নয়। যদি কোন জরুরী প্রয়োজনে খরচ করতেও হয় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেগুলো পুনরায় পুষিয়ে দিতে হবে।


পয়েন্ট নাম্বার ৩ 

আপনার সম্পদ অর্জনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হল আপনার আয় এবং আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হল ঋণ। বর্তমানে আমরা এমন একটা সময়ে বসবাস করছি যেখানে আমাদের শিখানো হয়ে থাকে ঋণ একটি ভাল জিনিস। তবে একজন ধনী জানেন ধনী দেখা আর ধনী হওয়ার মাঝে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। লেখকের মতে একজন ব্যাক্তি কেবল মাত্র তখনই আর্থিকভাবে মুক্ত হতে পারে যখন তার ওপর কোন ঋণের বোঝা থাকে না। ঋণ থেকে মুক্তি লাভের জন্য লেখক আমাদের পরামর্শ দেন ঋণের একটি তালিকা করার। পরিমাণে সবচেয়ে ছোট ঋণগুলো উপরে রেখে নিচে আস্তে আস্তে বড় ঋণগুলো তালিকাভুক্ত করতে হবে। এবার আপনি ঋণের জাল থেকে মুক্ত হতে সবার আগে ছোট ঋণগুলো পরিশোধ করা শুরু করুন এবং সেখান থেকে যে টাকা বাঁচবে সেটা দিয়ে আপনি আপনার লিস্টের পরের ঋণগুলো আস্তে আস্তে পরিশোধ করতে থাকুন। এভাবে দেখতে দেখতে খুব অল্প সময়ে আপনি আপনার সমস্ত ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। যদিও ব্যাপারটা বলা যত সহজ বাস্তবে করে দেখানো ততটাই কঠিন তবে এটা মনে রাখবেন যে এখন একটু কষ্ট না করলে পরে সারাজীবন কষ্ট করতে হবে।


পয়েন্ট নাম্বার ৪ 

এতক্ষণ হয়ত ভাবছেন লেখক আপনাকে জীবন উপভেগ করতে বাধা দিচ্ছে এবং শুধু কঠোর পরিশ্রম করার কথা বলছেন। আসলে আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার পর আনন্দ করার মাঝে যেই তৃপ্তি রয়েছে সেটা ঋণ নিয়ে আনন্দ করার মাঝে নেই। এখন আপনার কোন ঋণ থাকবে না এবং আপনি কমপক্ষে ১ বছরের জন্য আর্থিকভাবে নিরাপদও থাকবেন। এখন সময় আপনার ফাইনান্সিয়াল ফিটনেস বজায় রাখার। অনেক কষ্ট করে একবার ফিজিক্যালি ফিট হওযার পর যেমন আর আগের পরিশ্রম করতে হয় না ঠিক একইভাবে আর্থিকভাবে একবার মুক্ত হওয়ার পর সেটা বজায় রাখতে প্রয়োজন সহজ রক্ষণাবেক্ষণ। লেখক বলেন, একবার আপনি আপনার সকল ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার পর এবং আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার পর আপনি আপনার ইনকামের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ ইনভেস্ট করুন আপনার অবসরের জন্য। এই ইনভেস্টমেন্ট থেকে আপনার যেই রিটার্ন আসবে সেটাই হবে সত্যিকার অর্থে আপনার সম্পদ। আপনার লক্ষ থাকবে কমপক্ষে বাৎসরিক ১৫% রিটার্ন লাভ করা। যখন আপনার রিটার্ন আপনার সেভিংস থেকে বেশি হবে তখনই আপনি প্রকৃত অর্থে ধনী হবেন।


Post a Comment

Previous Post Next Post