ট্রেডিং সাইকোলজি কোন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি নয় যে আপনাকে এটা বলবে কখন কোথায় ক্রয় করতে হবে বা কখন বিক্রি করতে হবে। ট্রেডিং সাইকোলজি এমন একটি পদ্ধতি যেটা দ্বারা আপনি বুঝতে পারবেন ট্রেড়িং এর ক্ষেত্রে আপনার মনোভাব কেমন? ট্রেডিং সাইকোলজি আপনাকে এটা বুঝতে সাহায্য করবে যে, কোন একটি ট্রেডে অংশগ্রহন করার পর আপনার মনোভাব এবং চিন্তাধারা কেমন হওয়া উচিৎ। এতদিনে আপনি হয়ত টেকনিক্যাল এনালাইসিস সম্পর্কে অনেক কিছুই শিখেছেন তবে কেন তার সঠিক প্রয়োগ করতে পারছেন না, অথবা ট্রেড় করার সময় আপনি কি কি ভুল করছেন এসব প্রশ্নের উত্তর ট্রেড়িং সাইকোলোজির মাধ্যমে জানতে পারবেন।

ট্রেডিং সাইকোলোজি 

ক্রিপ্টো বা শেয়ার মার্কেটে কিছু ট্রেড়ারদের মনোভাব সবসময় বুলিশ (Bullish) হয়ে থাকে আবার কিছু ট্রেড়ারদের মনোভাব সমসসয় বিয়ারিশ হয়ে থাকে। বুলিশ মনোভাবের ট্রেড়াররা চার্টে সবসময় এমন সংকেত খুজতে থাকে যা প্রাইসকে উপরে নিয়ে যাবে। এবং বিয়ারিশ মনোভাবের ট্রেড়াররা চার্টে সবসময় এমন সংকেত খুজতে থাকে যা প্রাইসকে নিচে নিয়ে যাবে।
আসল কথা তো হচ্ছে একজন সফল ট্রেড়ার হতে গেলে আপনাকে বুলিশ এবং বিয়ারিশ দুই ধরনেরই মনোভাব সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। এবং আপনাকে মার্কেটের ট্রেন্ড অনুসরন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আপনার ট্রেড় পরিকল্পনা করতে হবে। ইনভেস্টমেন্টের দুনিয়ায় একটি উক্তি খুবই জনপ্রিয়,

THE WORLD OF INVESTING IS A JUNGLE.

অর্থাৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টক বা ইনভেস্টমেন্টের অন্যান্য যে কোন মার্কেট হল একটা জঙ্গলের মত যেখানে দুই ধরনের জন্তু বাস করে। বুল এবং বিয়ার। তবে একজন সফল ট্রেড়ার সেই ব্যাক্তিই হয় যে সিংহ হয়ে সেই জঙ্গলে থাকে। অর্থাৎ যে বুল এবং বিয়ার দুইজনেরই শিকার করে। একজন সফল ট্রেড়ার সবসময় এই উক্তিটি অনুসরন করে থাকে।
ALWAYS FOLLOW THE TREND
BECAUSE TREND IS YOUR BEST FRIEND

যখন মার্কেটের ট্রেন্ড বুলিশ থাকে তখন একজন সফল ট্রেড়ার বুলিশ মনোভাবের সাথে ট্রেড় করে। আর যখন মার্কেটের ট্রেন্ড বিয়ারিশ থাকে তখন একজন সফল ট্রেড়ার বিয়ারিশ মনোভাবের সাথে ট্রেড় করে থাকে। তবে চলুন সফল ট্রেড়ারদের কিছু সাইকোলোজি সম্পর্কে জানা যাক।

ট্রেডিং সাইকোলোজির কিছু মূলনীতি

একজন সফল ট্রেড়ার ট্রেড়িং সাইকোলোজির এই নীতির গুরুত্ব খুব ভালোভাবে বুঝেন এবং প্রয়োগও করেন।
একটি সফল ট্রেড়ের ৯০% হল অপেক্ষা এবং ১০% হল ট্রেড়িং। অর্থাৎ ট্রেডিং সাইকোলজির হিসাব অনুযায়ী একটা সফল ট্রেড করার জন্য ৯০% ভূমিকা পালন করে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা। সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা বলতে ট্রেড়িং চার্টে Buying setup এর অপেক্ষা
, সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স ব্রেকআউট হওয়ার অপেক্ষা, কোন টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের buying অথবা selling এর সঠিক সিগনালের অপেক্ষা, চার্ট পেটার্ন বা ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন পুরাপুরি গঠন হওয়ার অপেক্ষা ইত্যাদি। একজন ব্যার্থ এবং সফল ট্রেডারের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল ধৈর্য্য। তো সবার আগে একজন সফল ট্রেড়ারের মাঝে যে বৈশিষ্ট্যটি থাকা দরকার সেটি হল ধৈর্য। আপনি যদি একজন সফল ট্রেডার হতে চান তবে আপনার ধৈর্যশীল হওয়াটা খুবই জরুরী। কারণ আপনার ভিতর থাকা ধৈর্যই নির্ধারণ করবে যে, ট্রেড়ে আপনি জয়লাভ করবেন নাকি পরাজয়। যদি আপনার পর্যাপ্ত ধৈর্য না থাকে তবে  আপনার জন্য  পরামর্শ থাকবে যে, ক্রিপ্টো এবং স্টক মার্কেট থেকে যতটুক সম্ভব দূরে থাকার। অনেকে মনে করেন ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট হল সহজে ধনী হওয়ার শর্টকাট পদ্ধতি। তবে উক্তিটি শুনতে যতটুকু আকর্ষণীয় মনে হয় বাস্তবে ঠিক ততটায় অযৌক্তিক। যেমন মনে করুন আপনি বিটকয়েনে রেসিসটেন্স ব্রেকআউট হওয়ার অপেক্ষা করছেন। ২০০০০ ডলারে মনে করুন ব্রেকআউট কনফার্ম হবে এবং বিটকয়েনের বর্তমান প্রাইস ১৯৭০০। এই সময় অনেক ট্রেডার এইটা ভাবেন যে, এখনতো ৩০০ ডলার কমে পাওয়া যাচ্ছে ব্রেকআউট আর পরে কিনলে তো আমি ৩০০ ডলার প্রফিট কম পাচ্ছি। যেটা একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এ সময় আপনাকে ধৈর্য ধরে ২০ হাজার ডলারের উপরে সফলভাবে ক্যান্ডেল ক্লোজ হওয়ার অপেক্ষা করা উচিৎ। একজন অসফল ট্রেডার বেশিরভাগ সময়ে ভুলটিই করে থাকেন। চার্টে কোন টেকনিক্যাল প্যাটার্ন তৈরি হওয়ার আগে সেই ট্রেডারের মনের মধ্যে প্যাটার্ন তৈরি হয়ে যায়। এবং কোন সাপোর্ট এবং রেসিসটেন্স ব্রেকআউট হওয়ার আগেই তার মনের মধ্যে ব্রেকআউট হয়ে যায়। যার ফলে সে ব্রেকআউট কনফার্ম হওয়ার আগেই সে ট্রেডে এন্ট্রি নিয়ে ফেলে যেনো তার কোন ট্রেড় হাতছাড়া না হয়ে যায়। এবং এই তাড়াহুড়া করার কারণেই বেশিরভাগ ট্রেড়াররা লসের সম্মুখীন হয়। যখন আপনি কোন ট্রেড়ে এন্ট্রি নেন তখন আপনার ধৈর্যধারন করে টার্গেট অথবা স্টপ লস হিট হওয়ার অপেক্ষা করা উচিত। কেননা আপনি যে টার্গেট এবং স্টপ লস বসিয়েছেন সেগুলো তো অবশ্যই কোন না কোন টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মাধ্যমেই নির্ণয় করেছেন। কখনোই খুশি বা ভয়ের কারনে আপনার টার্গেট এবং স্টপ লস পরিবর্তন করবেন না। এসময় একদম স্বাভকবিক থাকুন ভয় পাবেন না। যদি প্রাইস টার্গেট কিংবা স্টপলসের কাছাকাছি চলে যায় তবে ভয়ে কিংবা খুশিতে অর্ডার পরিবর্তন করবেন না। ট্রেড় নেওয়ার আগে এবং ট্রেড় চলাকালীন সময়ে ধৈর্যশীলতার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করুন।

আসলে একদিনে বা একমাসে অথবা কোন কোর্স করে ট্রেড়িং এ পাণ্ডিত্য অর্জন করা যায় না। আম্তে আস্তে ভুল সংশোধন করার মাধ্যমে এটি অর্জন করতে হয়। এবং আমাদের এই ধীরে ধীরে অধ্যয়ন করার এই প্রয়াস আগামীতেও চলতে থাকবে। ~ ইনশা আল্লাহ্।

Post a Comment

Previous Post Next Post